Homeদেশের গণমাধ্যমেব্যাটারিচালিত রিকশাচালকদের বিক্ষোভ চলছেই, সড়কে ভোগান্তি

ব্যাটারিচালিত রিকশাচালকদের বিক্ষোভ চলছেই, সড়কে ভোগান্তি

[ad_1]

টানা কয়েকদিন ধরে চলছে ব্যাটারিচালিত রিকশাচালকদের অবরোধ কর্মসূচি। সকাল-বিকাল সড়ক অবরোধ করে কর্মসূচি পালন করছেন চালকরা। এরই ধারাবাহিকতায় রবিবারও ( ২৪ নভেম্বর) সকাল থেকে রাজধানীর বিভিন্ন জায়গায় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করলে তীব্র যানজট সৃষ্টি হয় রাজধানীর বিভিন্ন পয়েন্টে।

এদিন রাজধানীর মোহাম্মদপুর, ধানমন্ডি, যাত্রাবাড়ী ও জাতীয় প্রেস ক্লাব এলাকায় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখান ব্যাটারিচালিত রিকশাচালকেরা। এ কারণে মোহাম্মদপুর, ধানমন্ডি, মিরপুর ও গাবতলী সড়কে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়।

ব্যাটারিচালিত যানবাহন বন্ধে হাইকোর্টের আদেশ প্রত্যাহার করাসহ ১১ দফা দাবিতে এদিন বেলা ১১টার দিকে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনের রাস্তায় জড়ো হন হাজারো ব্যাটারিচালিত রিকশাচালক। এসময় পল্টন-প্রেস ক্লাব ও হাইকোর্ট এলাকার সড়কে যানচলাচল বন্ধ হয় যায়। এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন ওই পথে চলাচলকারী বাসে আটকে থাকা শত শত যাত্রী।

রিকশা-ভ্যান-ইজিবাইক শ্রমিক ইউনিয়নের ব্যানারে প্রেস ক্লাবের সামনে অবস্থান নেন অটোরিকশাচালকরা। চালকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তারা সিকশন, হাজারীবাগ, কামরাঙ্গীরচর এলাকা থেকে এসেছেন। চিটাগাং রোড এলাকা থেকে এসেছেন অনেকেই।

সমাবেশে রিকশা, ভ্যান, ইজিবাইক শ্রমিক ইউনিয়নের উপদেষ্টা আব্দুল্লাহ ক্বাফি রতন বলেন, আইন বাতিল করা না হলে আমরা রাজপথ ছাড়ছি না। ছাত্রদের গণঅভ্যুত্থানের সঙ্গে ছিলাম। তাই আমরা বলছি, দ্বিতীয় গণঅভ্যুত্থান সৃষ্টির পরিবেশ তৈরি করবেন না।

ব্যাটারিচালিত রিকশাচালকদের বিক্ষোভের কারণে সৃষ্টি হয় তীব্র যানজট, ভোগান্তিতে পড়েন সাধারণ মানুষ। আসাদগেট এলাকা থেকে সাভার পরিবহনে চড়ে আসা একজন যাত্রী রাকিবুল হাসান জানান, তাকে বহন করা বাসটি মৎস্য ভবনের কাছাকাছি পৌঁছানোর পর যানজটের কারণে আকটা পড়ে। পরে তিনি জানতে পারেন প্রেসক্লাবের দিকে রাস্তা বন্ধ করে আন্দোলন চলছে। উপায় না পেয়ে গাড়ি থেকে নেমে তিনি হেঁটে রওনা দেন শুলিস্তানের উদ্দেশে।

আরেকযাত্রী শফিকুর রহমান বলেন, বর্তমানে রাস্তাঘাটের যে পরিস্থিতি, কথা কথায় সড়ক বন্ধ করে দেয়। সাধারণ মানুষ নিয়ে কেউ ভাবে না। আন্দোলন তো আরও অনেকেভাবেই করা যায়। কিছু হলেই রাস্তা বন্ধ করে দেওয়ার এই প্রবণতা বন্ধ হওয়া উচিত।

এদিকে রবিবার সকাল থেকেই মোহাম্মদপুর বেড়িবাঁধ মোড়ে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন ব্যাটারিচালিত রিকশাচালকরা। এরফলে মোহাম্মদপুর, ধানমন্ডি, মিরপুর ও গাবতলী সড়কে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়।

এ বিষয়ে মোহাম্মদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আলী ইফতেখার হাসান বলেন, ‘হঠাৎ করে আজ সকাল সাড়ে ১০টা দিকে মোহাম্মদপুরের বেড়িবাঁধ চার রাস্তার মোড় ও ঢাকা উদ্যান এলাকায় অটোরিকশাচালকরা সড়ক অবরোধ করে। এতে সড়কে গাড়ি চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ঘটনাস্থলে পর্যাপ্ত সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।’

এছাড়া রবিবার সকাল থেকে যাত্রাবাড়ীতেও সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করছেন রিকশা চালকেরা। 

এ প্রসঙ্গে ডিএমপির তেজগাঁও জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার (ট্র্যাফিক) স্নেহাশিস কুমার দাস বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘কিছু পয়েন্টে সড়কে বিক্ষোভের কারণে যানবাহনের ধীরগতি রয়েছে। এসব কারণে মগবাজারে ফ্লাইওভারে গাড়ির চাপ বেড়েছে। ধীরে ধীরে চাপটা আরও কিছুক্ষণ বাড়বে ধারণা করা হচ্ছে।‘

তিনি বলেন, ‘ঢাকাতে এক জায়গায় সড়ক বন্ধ  হলে অন্যান্য এলাকায় চাপ সৃষ্টি হতে সময় লাগে না। বিকালের দিকে চাপ বাড়তে পারে বলে জানান তিনি।

গত ১৯ নভেম্বর বিচারপতি ফাতেমা নজীব ও বিচারপতি মাহমুদুর রাজীর হাইকোর্ট বেঞ্চ ঢাকা মেট্রোপলিটন এলাকায় তিন দিনের মধ্যে ব্যাটারিচালিত রিকশা চলাচল বন্ধের নির্দেশ দেন। একইসঙ্গে এ বিষয়ে ব্যবস্থা না নেওয়া কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না তা জানতে রুলও জারি করেন আদালত। হাইকোর্টের আদেশের পরদিন থেকেই রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় বিক্ষোভ করছেন ব্যাটারিচালিত রিকশাচালকরা।

বুধবার (২০ নভেম্বর) রাজধানীর যাত্রাবাড়ীর দয়াগঞ্জ, মিরপুর, কল্যাণপুরসহ বিভিন্ন স্থানে সড়ক অবরোধ করেন ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাচালকরা। বৃহস্পতিবার (২১ নভেম্বর) রাজধানীর আগারগাঁও, মহাখালী, মোহাম্মদপুর, মিরপুর, গাবতলী ও ডেমরা এলাকায় জড়ো হন তারা। এতে এসব এলাকায় তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। শুক্রবার (২২ নভেম্বর) দুপুরে জুরাইনে সড়ক ও রেলপথ অবরোধ করেন ব্যাটারিচালিত রিকশাচালকরা। এতে আটকা পড়ে নারায়ণগঞ্জ ও নকশিকাঁথা নামে দুটি কমিউটার ট্রেন। এছাড়া বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। শনিবারও (২৩ নভেম্বর) জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে সাত দফা দাবি বাস্তবায়নে সমাবেশ করেন তারা।



[ad_2]

Source link

এই বিষয়ের আরো সংবাদ

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -spot_img

এই বিষয়ে সর্বাধিক পঠিত