Homeদেশের গণমাধ্যমেদেশের সেরা ‘সুব্রত খাজাঞ্চি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়’

দেশের সেরা ‘সুব্রত খাজাঞ্চি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়’

[ad_1]

জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা সপ্তাহ উপলক্ষে অনুষ্ঠিত জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা পদক ২০২৪ প্রতিযোগিতায় দেশের শ্রেষ্ঠ প্রাথমিক বিদ্যালয় নির্বাচিত হয়েছে দিনাজপুরের চিরিরবন্দর উপজেলার সুব্রত খাজাঞ্চি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।

‘মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করি, বৈষম্যমুক্ত বাংলাদেশ গড়ি’ এই প্রতিপাদ্য সামনে রেখে শনিবার (১৭ মে) ঢাকায় প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এ পুরস্কার দেওয়া হয়।

বিদ্যালয়টি ২০১১ সালে চিরিরবন্দর উপজেলার ১১ নম্বর তেঁতুলিয়া ইউনিয়নের কুশলপুর গ্রামে প্রতিষ্ঠিত হয়। মাত্র ৩৩ জন শিক্ষার্থী নিয়ে যাত্রা শুরু করলেও বর্তমানে এখানে শিক্ষার্থীর সংখ্যা তিন শতাধিক। ২০২৩ সালে এটি জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ নির্বাচিত হয়েছিল এবং ২০২৪ সালে রংপুর বিভাগে শ্রেষ্ঠ হওয়ার পর এবার জাতীয় পর্যায়ে সেরা বিদ্যালয়ের মর্যাদা অর্জন করে।

সরেজমিন পরিদর্শনে দেখা যায়, বিদ্যালয়ের প্রবেশপথের দুই পাশে রয়েছে ফুলগাছের সারি, আঙিনায় রয়েছে শিশুদের খেলাধুলার উপকরণ, ছাদজুড়ে ফুল ও ফলের বাগান। সিসিটিভি ক্যামেরা দ্বারা নিয়ন্ত্রিত বিদ্যালয়টিতে শিক্ষার পরিবেশ উন্নয়নে সরকারি ও স্থানীয়দের সক্রিয় অংশগ্রহণ রয়েছে। শিক্ষার্থীদের জন্য রয়েছে দোলনা, ঢেঁকিকল, সরাৎ, ফুল ও সবজি বাগান, শহীদ মিনার, সততা স্টোর, সুসজ্জিত শ্রেণিকক্ষ ও মানচিত্র— সবকিছুই শিশুদের পাঠ ও চিত্তবিনোদনের উপযোগী করে গড়ে তোলা হয়েছে।

বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষক জগদীশ চন্দ্র রায় কালবেলাকে বলেন, ‘শুরু থেকেই ভাবতে থাকি কীভাবে বিদ্যালয়টিকে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের কাছে আকর্ষণীয় করে তোলা যায়। পাঠদানের মান ও পরিবেশ উন্নয়নে মনোযোগ দিই। আজ আমাদের শ্রম ও একনিষ্ঠতার ফলাফল হাতে পেলাম। ভবিষ্যতেও প্রথম হওয়ার লক্ষ্যে কাজ করে যাব।’

সহকারী শিক্ষিকা শাহিনা আক্তার বলেন, ‘সাফল্যের পেছনে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সম্মিলিত অবদান রয়েছে। শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি শতভাগ। হঠাৎ কেউ অসুস্থ হলে বা অন্য কারণে অনুপস্থিত হলে অভিভাবক নিজে এসে জানান। বিদ্যালয়ের পরিবেশ, শিক্ষার উপকরণ এবং প্রধান শিক্ষকের দক্ষ পরিচালনা এ প্রতিষ্ঠানকে আলাদা করে তোলে।’

অভিভাবক কল্পনা রানী রায় বলেন, ‘একটু দূরে হলেও মেয়েকে এখানে ভর্তি করিয়েছি, কারণ পরিবেশ খুব সুন্দর ও মনোরম। পড়াশোনার পাশাপাশি বিনোদনের সুযোগও রয়েছে। শিক্ষকরা সন্তানদের ভালোবাসা ও যত্ন দিয়ে পাঠদান করেন। অনেক দূরদূরান্ত থেকেও অভিভাবকরা সন্তানদের এখানে পাঠান।’

উপজেলা শিক্ষা অফিসার মিনারা বেগম কালবেলাকে বলেন, ‘জাতীয় পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ বিদ্যালয় হিসেবে নির্বাচিত হওয়ার পেছনে প্রধান শিক্ষকের কর্মপরিকল্পনা, কর্মদক্ষতা এবং বিদ্যালয়ের প্রতিটি কর্মক্ষেত্রে তার প্রত্যক্ষ ভূমিকা রয়েছে। শ্রেণিকক্ষ থেকে খেলার মাঠ, ছাদবাগান থেকে শিক্ষণীয় কৌশল— সব কিছুই যে কাউকে মুগ্ধ করবে।’

এ বিদ্যালয়ের সাফল্যের পেছনে শিক্ষক-শিক্ষার্থী-অভিভাবকদের সম্মিলিত প্রয়াস এবং একটি সুপরিকল্পিত, মনোযোগী ব্যবস্থাপনার প্রকাশ ঘটে, যা দেশের অন্য বিদ্যালয়গুলোর জন্য অনুকরণীয় হয়ে উঠতে পারে।



[ad_2]

Source link

এই বিষয়ের আরো সংবাদ

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -spot_img

এই বিষয়ে সর্বাধিক পঠিত